বাংলাদেশের তরুণ কবি লেবিসন স্কু’র মান্দি (গারো জনগোষ্ঠীর ভাষা) ভাষার কবিতা নকসিল (বাংলা: প্রতিবেশী) ও জাদিলগ্রি মাব্রাঙা (বাংলা: অস্তিত্ব অসহায়) প্রকাশিত হয় যথাক্রমে পাথরকুচি ওয়েভ ও ওয়ানগালা মাগ্যাজিনে। আন্তঃএশিয়া’র পাঠকদের জন্য বাংলায় অনুবাদ করেছেন কবি নিজে।
-সম্পাদক
প্রতিবেশী
বনমোরগের মশলা মাখা
রান খেয়ে
মাত্র হাত ধুলো অথবা
এইমাত্র কুড়াল হাতে যে
ব্যক্তি
বৃক্ষের ছায়া মুছতে
উদ্যত
তারা যতো রক্তের বা
বন্ধুত্বের সম্পর্কের হোক
সে আমার কেউ না
এমন কি প্রতিবেশীও নয়।
পাহাড়ের টিলা দেখলে
যাদের চোখ লোভে চকচক
করে
সারি সারি কংক্রিটের
দালান বানানোর
স্বপ্ন অথবা
যে বৃক্ষের ডাল মানুষকে
লাফাতে শেখায়,
তাকে চিতার লাকড়ি
শোয়ার পালঙ্ক বানায়
সে কেনো আমার বন্ধু হবে?
বরং বৃক্ষের ছায়া
আমার সাথে ভাগাভাগি
করে
পাশে যে বসে;
বনমোরগের সোনালি নাচ
দেখে সুখী হয়
সেই তো আমার প্রতিবেশী।
অস্তিত্ব অসহায়
গলা উঁচু করে দাঁড়িয়ে
পাহাড়
মেঘকে ডাকে সুগন্ধি
ইশারায়
বনমোরগের ঝাঁক আর ঘুঘুর তাজা গল্পে
কাঁটা ঝোপঝাড়েই এখন
স্বপ্ন ফলে প্রচুর।
প্রজনন হারিয়ে শিকড়
আড়ালে
আপেল তেজে প্রান্তিক
বীজ
চেষ্টা করে জেগে ওঠার;
ঝিম ধরা বিকেলে
জোড়া খরগোশ
তবু কবিতা পড়ে
নুয়ে পড়া দূর্বাঘাসের
আড়ালে...
লেবিসন স্কু
লেবিসন স্কু বাংলাদেশের তরুণ কবিদের মধ্যে অন্যতম। একাধারে বাংলা ও মান্দি (গারো জনগোষ্ঠীর ভাষা) ভাষায় লেখালেখি করেন। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘মানুষ এক অদ্ভূত সাঁড়াশি অনুবাদক’ (২০১৭) ও ‘বুকের ডালে ঝুলিয়ে দেবো নরম নদী’ (২০২৩)।
আরো পড়ুন