এখনো বসিয়া সেঁউতীর মালা গাঁথিছে ভোরের তারা, ঊষার
রঙিন শাড়ীখানি তার বুনান হয়নি সারা। ডাকে কেয়াবনে ফুল-মঞ্জরি ঘন-দেয়া সম্পাতে, মাটির
বুকেতে তমাল তাহার ফুল-বাহুখানি পাতে। শূন্য হাওয়ার শূন্য ভরিতে বুকখানি করি শুনো, ফুলের
দেউল হবে না উজাড় আজিকে প্রভাতে পুন। তুমি যে কিশোর তোমার দেশেতে হিসাব নিকাশ নাই, যে আসে
নিকটে তাহারেই লও আপন বলিয়া তাই। শূন্য হাওয়ার শূন্য ভরিতে বুকখানি করি শুনো, ফুলের
দেউল হবে না উজাড় আজিকে প্রভাতে পুন।
বঁধুর কোলেতে বধুয়া ঘুমায়, খোলেনি
বাহুর বাঁধ, দীঘির জলেতে নাহিয়া নাহিয়া মেটেনি তারার সাধ। সখালী পাতাও
সখাদের সাথে, বিনামূলে দাও প্রাণ, এপারে মোদের মথুরার মত নাই দান-প্রতিদান।
এখনো গোপন আঁধারের তলে আলোকের শতদল, মেঘে মেঘে লেগে বরণে বরণে করিতেছে টলমল।
সেথায় তোমার কিশোরী বধূটি মাটির প্রদীপ ধরি, তুলসীর মূলে প্রণাম যে আঁকে হয়ত তোমারে
স্মরি। হাসিটি হেথায় বাজারে বিকায় গানের বেসাত করি, হেথাকার লোক সুরের পরাণ ধরে মানে লয় ভরি।
এখন হইবে লোক জানাজানি, মুখ
চেনাচেনি আর, হিসাব নিকাশ হইবে এখন কতটুকু আছে কার। হায়রে কিশোর হায়!
ফুলের পরাণ বিকাতে এসেছ এই পাপ-মথুরায়। কালিন্দী লতা গলায় জড়ায়ে সোনার গোকুল কাঁদে
ব্রজের দুলাল বাঁধা নাহি পড়ে যেন মথুরার ফাঁদে। সখালী পাতাও সখাদের সাথে, বিনামূলে
দাও প্রাণ, এপারে মোদের মথুরার মত নাই দান-প্রতিদান। তুমি যে কিশোর
তোমার দেশেতে হিসাব নিকাশ নাই, যে আসে নিকটে তাহারেই লও আপন বলিয়া তাই।
এখনো বসিয়া সেঁউতীর মালা গাঁথিছে ভোরের তারা, ঊষার
রঙিন শাড়ীখানি তার বুনান হয়নি সারা। ঘরে ফিরে যাও সোনার কিশোর! এ পাপমথুরাপুরী, তোমার
সোনার অঙ্গেতে দেবে বিষবান ছুঁড়ি ছুঁড়ি। মোদের মথুরা টরমল করে পাপ-লালসার ভারে, ভোগের
সমিধ জ্বালিয়া আমরা পুড়িতেছি বারে বারে। মাধবীলতার দোলনা বাঁধিয়া কদম্ব-শাখে শাখে, কিশোর!
তোমার কিশোর সখারা তোমারে যে ওই ডাকে। আজিও নিজেরে বিকাইতে পার ফুলের মালার দামে, রূপকথা
শুনি তোমাদের দেশে রূপকথা-দেয়া নামে।
রঙের কুহেলী তলে, তোমার
জীবন ঊষার আকাশে শিশু রবি সম জ্বলে। তুমিও হয়ত জান না কিশোর, সেই
কিশোরীর লাগি, মনে মনে কত দেউল গেঁথেছে কত না রজনী জাগি। ঘরে ফিরে যাও
সোনার কিশোর! এ পাপমথুরাপুরী, তোমার সোনার অঙ্গেতে দেবে বিষবান ছুঁড়ি
ছুঁড়ি। বিহগ ছাড়িয়া ভোরের ভজন আহারের সন্ধ্যানে, বাতাসে বাঁধিয়া পাখা-সেতু-বাঁধ ছুটিবে
সুদুর-পানে। কে এলে তবে ভাই, সোনার গোকুল আঁধার করিয়া এই মথুরার ঠাই।
আহনাফ নাসিফ
আহনাফ নাসিফ বাংলাদেশের ক্রীড়া-সংশ্লিষ্ট লেখালেখির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম। পূর্বে কাজ করেছেন বুদ্ধিবৃত্তিক নিউজ পোর্টালের ক্রীড়া-সম্পাদক হিসেবে। বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছে জাতীয়তাবাদী ওয়েবম্যাগ ‘আন্তঃএশিয়া’র সম্পাদক হিসেবে। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ ‘রিয়াল মাদ্রিদ’ দেশের প্রথম ফুটবল বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস গ্রন্থ।
আরো পড়ুন